কোলাঘাট-পাঁশকুড়ার সোয়াদিঘী খাল সংলগ্ন জলবন্দী এলাকার জমা দূষিত জল দ্রুত বের করার বিষয়ে জেলাশাসক দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের সভা।

 কোলাঘাট-পাঁশকুড়ার সোয়াদিঘী খাল সংলগ্ন জলবন্দী এলাকার জমা দূষিত জল দ্রুত বের করার বিষয়ে জেলাশাসক দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের সভা।


জেলা শাসকের কথামত ১০টি জেসিবি মেশিন খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু না করাই ক্ষোভ। 
         গত ৭ই অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পুর্নেন্দু মাজী সোয়াদিঘি খাল এলাকা পরিদর্শনে এসেছিলেন। এলাকার ভয়াবহ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে উনি সেচ দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন,খালের রামতারক থেকে নোনাকুড়ি পর্যন্ত অংশে অন্তত দশটি জেসিবি মেশিন নামিয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে জলনিকাশিতে বাধা সৃষ্টিকারী অংশগুলি পরিষ্কার করার। কিন্তু মাত্র চারটি মেশিন সেচ দপ্তর নামাতে পেরেছে। তাও আবার সব মেশিনগুলি একসঙ্গে কাজ করছে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা শাসক পূর্ণেন্দু মাজী সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবার জন্য আজ জেলা শাসক দপ্তরের কনফারেন্স হলে এক উচ্চ পর্যায়ের সভা ডাকেন। সভায় জেলা শাসক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা শাসক (উন্নয়ন) নেহা বন্দ্যোপাধ্যায় ,সেচ দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেবব্রত সরকার ,মহকুমা শাসক(তমলুক)দিব্যেন্দু  মজুমদার সহ কোলাঘাট-পাঁশকুড়া-শহীদ মাতঙ্গিনী-তমলুক ব্লকের বিডিও এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিগন। এছাড়াও আন্দোলনকারী সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বন্যা-ভাঙ্গন প্রতিরোধ কমিটির সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক,সোয়াদিঘী খাল সংস্কার সমিতির সম্পাদক মধুসূদন বেরা প্রমুখ। সভায় আরো দু/তিনটি মেশিন শীঘ্রই নামিয়ে দ্রুত দুর্গন্ধযুক্ত জমা জল বের করার ব্যাপারে সেচ দপ্তর পদক্ষেপ নেবেন বলে এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জানান। পূর্ণাঙ্গ সোয়াদিঘী খাল সহ শাখাখালগুলি সংস্কার করবার বিষয় নিয়ে তমলুকের মহকুমা শাসক ও সেচ দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের উপস্থিতিতে আগামীকাল সোয়াদিঘী থেকে নারায়ণ পাকুড়িয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে যৌথ পরিদর্শন করার সিদ্ধান্ত হয়। পরশুদিন পাঁশকুড়া ব্লকের অন্তর্গত শাখাখালগুলিও একইভাবে পরিদর্শন করে সেচ দপ্তর সামগ্রিকভাবে পূর্ণাঙ্গ ডি পি আর তৈরি করে জেলাশাসককে দ্রুত জমা দেবে।  
            সংগঠন দুটির পক্ষে নারায়ণ চন্দ্র নায়ক ও মধুসূদন বেরা জানান,গত সাত দিনে গড়ে প্রতিদিন মাত্র এক ইঞ্চি করে জমা জল বের হয়েছে। এলাকায় নানান ধরনের চর্ম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। অতি দ্রুত আরো তিনটি মেশিন নামিয়ে এলাকার জলবন্দী পরিস্থিতি খানিকটা স্বাভাবিক করতে হবে। এবং বর্ষার পরই যে কোন উপায়েই সোয়াদিঘী সহ-সব শাখাখালগুলি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করতে হবে। অন্যথায় ভুক্তভোগীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে বলে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। 
          অন্যদিকে কোলাঘাট ব্লকের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিকাশী খাল এলাকায় জলনিকাশীর অভাবে প্রায় কুড়ি/পঁচিশটি গ্রাম প্রায় মাসাধিক কাল  ধরে জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। ওই জমা জল দ্রুত বের করার বিষয়ে কোলাঘাট ব্লকের বিডিও অফিসে আজ বিকেলে অনুরূপ একটি প্রশাসনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় বিডিও ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সেচ দপ্তরের এসডিও। সভা থেকে জলনিকাশিতে বাধা সৃষ্টিকারী গোবিন্দচকের দুটি বেআইনি মাছের ভেড়ি মধ্যবর্তী নাসা খাল অবিলম্বে সংস্কারের বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়।

Post a Comment

0 Comments